খুলনা নগরে রাজু হাওলাদার (৩৮) নামের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে আবারও গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৪ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রূপসা উপজেলার কুদির বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত রাজু হাওলাদার লবণচরা থানার শিপইয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় হত্যা, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত সোমবার নগরীর লবণচরা থানার কোবা মসজিদ-সংলগ্ন এলাকায় পেটে গুলিবিদ্ধ হন রাজু। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে কখন ও কীভাবে সে গুলিবিদ্ধ হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাজুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সটি রূপসা উপজেলার কুদির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে সেটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে।
লবণচরা থানার ওসি সৈয়দ মোশারেফ হোসেন বলেন, রাজুর ওপর গুলির ঘটনা কখন ও কোথায় ঘটেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে পাওয়া যায়। তার পেটে গুলির চিহ্ন ছিল। তার বিরুদ্ধে থানায় চারটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঘটনার নেপথ্যের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। অ্যাম্বুলেন্সে গুলির ঘটনার বিষয়ে তেমন কিছু বলতে পারেননি তিনি। তবে, বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি শুনেছেন বলে জানান।
কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি মো. জাফর আহম্মেদ বলেন, লবণচরা থানার একজন আসামি চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় যাওয়ার পথে কুদির বটতলা এলাকায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি করেছে বলে শুনেছি। পরে তারা আমাদের কাছে বিষয়টি জানিয়ে নিরাপত্তা চায়। আমরা পুলিশি নিরাপত্তা দিয়ে তাদের আমাদের থানা এলাকা পার করে দিই।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। গুলি অ্যাম্বুলেন্সে লেগেছিল কি না, তারা খতিয়ে দেখেননি। রাতের বেলা তারা শুধু সহায়তা চেয়েছিল পুলিশ সেটাই করেছে। এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দিলে লবণচরা ও রূপসা থানা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
